ইন্টারভিউতে এই ১৫টি প্রশ্ন থেকে নিয়োগদাতারা আসলে যা জানতে চান

চাকরির ইন্টারভিউতে নিয়োগদাতারা ঘুরেফিরে সাধারণত ১৫টি প্রশ্নই করেন। আর এই ১৫টি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেই যে কেউ সহজেই যেকোনো চাকরির ইন্টারভিউতে পাস করে যেতে পারবেন। তবে এও সত্যি যে, চাকরির ইন্টারভিউতে আপনি হয়তো শত শত প্রশ্নের ‍মুখোমুখি হতে পারেন। কিন্তু মূলত ১৫টি মূল প্রশ্নের ধারণাকে ঘিরেই ওই শত শত প্রশ্নের সৃষ্টি। এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মূলত জানতে চাওয়া হয়- আপনি নিজের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করেন? আর আপনি কি জানেন নিজের সম্পর্কে বলার সময় কী রাখতে হবে আর কী ফেলে দিতে হবে? এই ধরনের কাছাখোলা প্রশ্নের আসলে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলতে হবে এবং কখন থামতে হবে তা ‍উত্তরদাতাকেই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রশ্নের আড়ালের প্রকৃত প্রশ্ন হলো- যা করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন আপনি তার কী করতে পারেন? বা আপনি কি আদৌ জানেন কী করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন?

এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত যা জানতে চান তা হলো- ‘আমি এই চাকরির জন্য আবেদন করেছি কারণ আমার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রেরণা সব এই চাকরির জন্যই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।’ এই প্রশ্নের উত্তরের প্রতিটি লাইনেই আবেদনকৃত চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্টের প্রতিফলন ঘটান। আর নিজের প্রয়োজনগুলো উল্লেখ করার আগে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করুন। এই প্রশ্নের মানে হলো- আপনি সত্যিই নিজেকে চেনেন কিনা? আর আমাদের এখানকার সমস্যাটা কী তা কি আপনি জানেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় চাকরির দায়-দায়িত্বের বিবরণটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এ ছাড়া বিশেষণ ব্যবহারে হালকা চালে এগোতে হবে আর মৌলিক তথ্য প্রদানের সময় ভারিক্কি বজায় রাখতে হবে।

প্রকৃত প্রশ্ন : আমি আপনার সম্পর্কে ইতিমধ্যেই যা ভাবছি তা কি ঠিক? আর আপনি কি আগের সবার মতো একই ধরনের চাতুর্যপূর্ণ ও খোঁড়া উত্তরটিই দিতে যাচ্ছেন, নাকি আপনি আমার সঙ্গে পাল্লা দিতে যাচ্ছেন?
আর যাই করুন এই প্রশ্নের কোনো গতানুগতিক উত্তর দিতে যাবেন না যেন। কারণ এমনও হতে পারে এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতা মূলত আপনার সম্পর্কে পূর্ব অনুমানকৃত দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন। নতুন কোনো দুর্বলতার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইছেন না।

প্রশ্নটি শুনে এই ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না যে, আপনাকে নিয়োগ না দিয়েই হয়তো তারা আপনার ধারণাগুলো চুরি করবে। তবে এমনটি ঘটাও অসম্ভব নয়। আর এটাই জীবন। এ ক্ষেত্রে আপনি উদারতা বা কৃপণতা যেকোনো একটি প্রদর্শন করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন কৃপণকে কেউই পছন্দ করে না। এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত বুঝতে চান, আপনি নিজ দায়িত্বে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম কিনা। আর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যে পদবির উঁচুনিচু ভেদাভেদ আছে সে বিষয়টিও আপনি মেনে নিতে পারেন কিনা।

About admin

Check Also

সে কি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে? ৬ উপায়ে বুঝে নিন

প্রাথমিকভাবে সম্পর্কের নানা লক্ষণ দেখেই যে কেউ বুঝতে পারবে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে যথেষ্ট ভাব হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *